জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চলমান সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর দাবি, আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিসিএস ক্যাডারের কাস্টমস ও ট্যাক্স কর্মকর্তাদের বাছাই করে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো এবং সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, যেখানে আন্দোলনে সক্রিয় কর্মকর্তারা শাস্তির মুখে পড়ছেন, সেখানে চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ বা অনুগত কিছু কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। “শত বছরের প্রতিষ্ঠান বিলুপ্তি নয়, টেকসই এনবিআর চাই”—এই দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
জানা গেছে, চেয়ারম্যানের নির্দেশে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে একাধিক কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও পরবর্তীতে কিছু সাসপেনশন প্রত্যাহার করা হয়েছে, তবুও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে গ্রেড ৪-৫ ধাপ অবনমনসহ লঘুদণ্ড প্রদান প্রক্রিয়া এখনও চলমান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, চেয়ারম্যান ব্যক্তিগতভাবে এসব সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন এবং রাষ্ট্রপতির আদেশের বিষয়টি ব্যবহার করে নিজ স্বাক্ষরে অবসরের নির্দেশ জারি করছেন, যা আইনি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তারা আরও বলেন, এসব সিদ্ধান্তে প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন ছিল কিনা তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।
এদিকে, এসব পদক্ষেপে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন ও অন্যায়ভাবে অবসরে পাঠানোদের পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন।
ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্বচ্ছ তদন্ত কমিটি গঠন ও দ্রুত সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে একটি টেকসই ও কার্যকর এনবিআর গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
জাগ্রত বাংলাদেশ নিউজ